প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 29, 2025 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 4, 2025 ইং
ছেলের মুখ আজও ভেসে ওঠে: শহীদ তৌহিদের মায়ের কান্নাজড়িত স্মৃতি

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :যখনই চোখ বন্ধ করি, ছেলের মুখখানা ভেসে ওঠে—এভাবেই চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে কথাগুলো বলছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এস এম তৌহিদুর রহমানের মা রাশিদা বেগম।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর গ্রামের তৌহিদ (২৮)।
ঢাকার ক্রয়ডন কাউলুন ডিজাইনস লিমিটেডে জুনিয়র স্পটম্যান হিসেবে চাকরি করতেন তৌহিদ। তার আয়ে চলত পরিবার। বাবা-মা ছাড়াও স্ত্রী ও একটি ছোট কন্যাসন্তান রয়েছে তার। এখন স্ত্রী নাসরিন আক্তার তিন বছরের মেয়ে আয়শাকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় বাবার বাড়িতে আছেন।
শহীদ হওয়ার পর তাকে নিজ গ্রামের বাড়ির পাশে দাফন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শোক আর অভাবের কষ্টে তৌহিদের পরিবারে নেমে এসেছে নীরব হতাশা।
তৌহিদের মা বলেন, “ও আমাকে বলেছিল, ‘মা, শিগগিরই বাড়ি আসব।’ কিন্তু ও যে এভাবে আসবে, তা কোনোদিন কল্পনাও করিনি। আমি এর বিচার চাই।”
বাবা আব্দুর জব্বার মোল্যা কণ্ঠ ভার করে বলেন, “আমার ছেলে কেন শহীদ হলো? সে চেয়েছিল মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, নাগরিক স্বাধীনতা পায়। সরকার বদলেছে, কিন্তু শহীদদের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সেটাই আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। আর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেন একদিন জেলা পর্যায়ে এসে আমাদের মতো শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।”
তৌহিদের কবর জিয়ারত ও খোঁজ নিতে মাঝেমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বাড়িতে আসেন বলে জানান তিনি। তবে ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে পরিবারটি আজও বেঁচে আছে অনেক কষ্টে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ